আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

তীব্র শীতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

তীব্র শীতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল কিছুটা বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। তবে কাজাখস্তান থেকে পুনরায় উত্তোলন শুরু হওয়ার কারণে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা সীমিত হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ২৩ সেন্ট বা দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৫ ডলার ৮২ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার ৯২ সেন্ট, যা আগেরদিনের তুলনায় ব্যারেলে ২৯ সেন্ট বা দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি।

বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তুষার ঝড়ের কারণে দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল বা মোট উত্তোলনের প্রায় ১৫ শতাংশ জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ বা কমেছে।

পিভিএম ব্রোকার কোম্পানির অয়েল অ্যানালিস্ট তামাস ভার্গা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এমন পরিস্থিতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির এ প্রবণতাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে কাজাখস্তান। দেশটি সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র থেকে উত্তোলন পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে। যদিও কিছু শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তোলন এখনো সীমিত মাত্রায় চলছে।’

আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এসইবি রিসার্চের সোমবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র শীতল আবহাওয়ার কারণে হিটিং অয়েলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্ন গত সপ্তাহের শেষ দিকে জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন এবং ইরানের বিরুদ্ধে দেয়া হুমকিই বাজারে পণ্যটির দামের ওঠানামার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।’

এদিকে ওপেক প্লাস আগামী মার্চেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখতে পারে। সংশ্লিষ্ট তিন সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস। সংগঠনটির আগামী বৈঠক ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর সদস্য আট দেশের উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা দৈনিক প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, যা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৩ শতাংশ। এরপর চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ আল জাবের। গতকাল ইন্ডিয়া এনার্জি উইক সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ২০৪০ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেলের ওপরে বজায় থাকবে। এ সময় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও বিদ্যুতের চাহিদা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি বাড়বে বলে তিনি পূর্বাভাস দেন।

আরও